আরও দেখুন
বৃহস্পতিবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল, কিন্তু এটি সোজাসাপ্টা দরপতন ছিল না। প্রাথমিকভাবে লক্ষণীয় যে গতকাল কেবলমাত্র পাউন্ডের জন্য উল্লেখযোগ্য ইভেন্ট হিসেবে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে এই বৈঠকের ফলাফল ঘোষণার পর মার্কেটে মুভমেন্ট শুরু হবে বলে ধারণা করা যুক্তিযুক্ত ছিল। তবে এ ধরনের কিছুই ঘটেনি। রাতেই ব্রিটিশ পাউন্ডের দরপতন শুরু হয়, সরাসরি ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের বৈঠক চলমান থাকার সময়ও দরপতন হতে থাকে এবং ফলাফল ঘোষণার পরও দরপতন অব্যাহত থাকে। বৈঠকের পর পাউন্ডের দরপতনের কারণ ব্যাখাযোগ্য, কিন্তু বৈঠকের আগে হওয়া দরপতনের ব্যাখ্যা দেয়া অপেক্ষাকৃত কঠিন।
চলুন ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের বৈঠকের সিদ্ধান্ত ভালোভাবে বিশ্লেষণ করি। ব্রিটিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ট্রেডারদের প্রত্যাশা মতোই সিদ্ধান্ত নিয়েছে—মূল সুদের হার অপরিবর্তিত রেখে 3.75%-এ বজায় রাখা হয়েছে। তবে আর্থিক নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির চারজন সদস্য সুদের হার হ্রাসের পক্ষে ভোট দিয়েছেন—যা পূর্বাভাসকৃত দুইটি ভোটের চেয়ে বেশি। এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও নমনীয় বা "ডোভিশ" অবস্থান নির্দেশ করে, যার ফলে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুদের হার না কমালেও ব্রিটিশ কারেন্সির দরপতন হয়েছে। ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের পূর্ণাঙ্গ নিম্নগামী প্রবণতা গঠিত হয়েছে, যা একটি ট্রেন্ডলাইন দ্বারা সমর্থিত।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, রাতেরবেলা ব্রিটিশ পাউন্ডের দরপতন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়। এই পেয়ারের মূল্য 1.3643-1.3652 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করে এবং দিনের বেশিরভাগ সময়ই নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় ছিল। মার্কিন ট্রেডিং সেশনে এই পেয়ারের মূল্য দুইবার 1.3529-1.3543 এরিয়াতে পৌঁছেছে। আমরা মধ্যবর্তী রেঞ্জ 1.3574-1.3590 তুলে দিয়েছি, কারণ এটি এখন আর কার্যকর নয়। গতকাল ওই এরিয়ার আশেপাশে সিগন্যাল তৈরি হচ্ছিল, কিন্তু ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের বৈঠকের ফলাফল ঘোষণার সময় উচ্চ ঝুঁকির কারণে সেগুলোর ভিত্তিতে ট্রেড করা উচিত ছিল না।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার গঠন অব্যাহত রয়েছে। মধ্যমেয়াদে ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো ভিত্তি নেই, তাই আমরা আশা করছি ২০২৬ সালেও ২০২৫ থেকে চলমান বৈশ্বিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে, যা অন্তত এই পেয়ারের মূল্যকে 1.4000 পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। গত সপ্তাহে সার্বিক পরিস্থিতি ব্রিটিশ কারেন্সির পক্ষে ছিল না, তবে আমাদের মতে এই দরপতন মূল ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় কেবল একটি অস্থায়ী বিরতি মাত্র।
শুক্রবার এই পেয়ারের মূল্য 1.3529-1.3543 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেশন করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3484-1.3489-এর দিকে যাওয়ার টার্গেট নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3529-1.3543 এরিয়ার উপরে কনসোলিডেট করে, তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3643-1.3652-এর দিকে যাওয়ার টার্গেট নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য বিবেচ্য লেভেলগুলো: 1.3319-1.3331, 1.3365, 1.3403-1.3407, 1.3437-1.3446, 1.3484-1.3489, 1.3529-1.3543, 1.3643-1.3652, 1.3741-1.3751, 1.3814-1.3832, 1.3891-1.3912, 1.3975। শুক্রবার যুক্তরাজ্যে কোনো আকর্ষণীয় ইভেন্ট নির্ধারিত নেই বা কোনো প্রতিবেদনও প্রকাশিত হবে না। যুক্তরাষ্ট্রে কেবলমাত্র মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভোক্তা মনোভাব সূচক প্রকাশিত হবে, যা তেমন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করা হয় না।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।