empty
 
 
06.04.2026 12:55 PM
ট্রাম্পের আলটিমেটামের মেয়াদ ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে শেষ হচ্ছে

সপ্তাহান্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে আগ্রাসী হুমকি দিয়েছেন—ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করার এবং দেশটির উপর "নরকে নামিয়ে" আনার মতো মন্তব্য করেছেন।

ইরান ইতোমধ্যেই ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালী পুনরায় অবরোধমুক্ত করার সাম্প্রতিক আলটিমেটাম প্রত্যাখ্যান করেছে এবং যুদ্ধসংশ্লিষ্ট ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ না পেলে পুনরায় পূর্ণশক্তি নিয়ে আক্রমণ শুরু করবে বলে জানিয়েছে। একই সময়ে তেহরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোসমূহে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, উল্লেখ্য যে কুয়েতের জাতীয় তেল কোম্পানির প্রধান কার্যালয়েও হামলা হয়েছে।

This image is no longer relevant

আজ মার্কিন প্রেসিডেন্টের আরেকটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে এবং আলটিমেটামের মেয়াদ আগামীকাল মস্কো সময় 03:00-এ শেষ হবে।

এইরূপ পরিস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সংকটজনক স্তরে পৌঁছেছে। ওয়াশিংটন থেকে আসা নতুন হুমকি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উদ্বিগ্ন করছে, যারা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের তীব্রতর হওয়ার সম্ভাবনা—এমনকি স্থল অভিযান শুরুর— সম্ভাবনাও দেখছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেসামরিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে হুমকি আন্তর্জাতিক নীতিমালার পরিপন্থী এবং মানবিক দিক থেকে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

ইরান নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা ও বহিরাগত চাপের জবাব দেওয়ার সংকল্প প্রদর্শন করছে। হরমুজ প্রণালী কেবল যুদ্ধে সংঘটিত ক্ষতির ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পরেই খোলা হবে—এই বিবৃতি গভীর অভিযোগ ও তেহরানের শর্তে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আগ্রহ প্রদর্শন করে। যদিও এই অবস্থানের কারণে ট্রাম্প আলটিমেটাম দিয়েছেন, তবে এটি তেহরানের উদ্দেশ্যকে প্রতিফলিত করে: দেশটি ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে চায় ও নিজস্ব শর্তে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে চায়।

কুয়েতসহ প্রতিবেশী দেশের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা ইরানের কৌশল প্রয়োগের স্থির সংকেত। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে এই ধরনের আক্রমণ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার উপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। এটি ইতোমধ্যেই নাজুক ক্ষমতার ভারসাম্যকে আরো জটিল করে তুলেছে এবং সংঘাতের বিস্তারের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

গতকালে এক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা সম্ভাব্য 45 দিনের যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা করছে, যা অস্থায়ীভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটগুলোর উপর থেকে চাপ হ্রাস করেছে। তবে পরবর্তী 48 ঘণ্টার মধ্যে কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা কমই।

উল্লেখ্য যে ২৬ মার্চ ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালী পুনরায় অবরোধমুক্ত করতে ১০ দিনের ডেডলাইন দিয়েছিলেন, যা আগামীকাল শেষ হচ্ছে।

ফরেক্স মার্কেটে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ তীব্র হয়, তাহলে ইউরো ও পাউন্ডসহ ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটের বিপরীতে পুনরায় মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেশি।

EUR/USD‑এর টেকনিক্যাল বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ক্রেতাদের এই পেয়ারের মূল্যকে 1.1540-এর লেভেলের দিকে নিয়ে যেতে হবে। এতে এই পেয়ারের মূল্যের 1.1590-এর লেভেলে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। যদি ক্রেতারা সফল হয়, তাহলে ইউরোর মূল্য 1.1630 পর্যন্ত বাড়াতে পারে, তবে বড় ক্রেতাদের সমর্থন ছাড়া তা করা কঠিন হবে। সবচেয়ে দূরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.1662‑এর লেভেল নির্ধারণ করা যায়। নিম্নমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে, এই পেয়ারের মূল্য কেবল 1.1510‑এর আশেপাশে থাকা অবস্থায় আমি ক্রেতাদের সক্রিয় হওয়ার প্রত্যাশা করছি। এই পেয়ারের মূল্য উক্ত লেভেলে থাকা অবস্থায় ক্রেতারা সক্রিয় না হলে 1.1485‑এর লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হওয়ার জন্য অপেক্ষা করাই যুক্তিযুক্ত হবে, অথবা এই পেয়ারের মূল্য 1.1445‑এ থাকা অবস্থায় লং পজিশন ওপেন করা উচিত।

GBP/USD‑এর বর্তমান টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, পাউন্ডের ক্রেতাদের এটির মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স 1.3230 লেভেলে নিয়ে যেতে হবে। এতে এই পেয়ারের মূল্যের 1.3260‑এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। ঐ লেভেল অতিক্রম করা কঠিন হতে পারে। পরবর্তী প্রধান লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে এই পেয়ারের মূল্যের প্রায় 1.3300-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করকা যেতে পারে। দরপতনের ক্ষেত্রে মূল্য 1.3200‑এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে; তাঁরা সফল হলে ঐ লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সেটি ক্রেতাদের জন্য গুরুতর ধাক্কা হবে এবং ব্রিটিশ কারেন্সির মূল্য 1.3160‑এর কাছাকাছি নেমে যেতে পারে, যেখানে 1.3130 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা থাকবে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.