আরও দেখুন
শুক্রবার বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদনগুলো যুক্তরাজ্যে প্রকাশিত হবে। মনে রাখবেন যে ব্রিটেনে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনগুলো পৃথকভাবে নয় বরং ব্লক আকারে প্রকাশিত হয়। আজ এপ্রিলের জিডিপি ও শিল্প উৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, যেখানে ট্রেডাররা ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মুদ্রানীতি, মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন উপেক্ষা করছে, সেখানে আমরা গ্রেট ব্রিটেন থেকে প্রকাশিতব্য স্বল্প গুরত্বসম্পন্ন প্রতিবেদনের প্রভাবে মার্কেটে উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির আশা করছি না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কনজিউমার সেন্টিমেন্ট ইনডেক্স বা ভোক্তা মনোভাব সূচকও প্রকাশিত হবে, যদিও ট্রেডাররা এই সূচকটিও উপেক্ষা করতে পারে।
শুক্রবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে আমরা বুন্দেসব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জোয়াকিম নাগেলের বক্তব্যের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে পারি। তবে, গতকালই ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও, ট্রেডাররা এই সিদ্ধান্তের প্রতি তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। সুতরাং, নাগেলের কাছ থেকে নতুন কোনো তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা কম, এবং হোয়াইট হাউস থেকে যখন সংবাদ মাধ্যমগুলোতে ক্রমাগত মনগড়া বিবৃতি দেয়া হচ্ছে, তখন ট্রেডাররা পক্ষেও নাগেলের ভাষণের দিকে নজর রাখতে পারার সম্ভাবনা কম।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এখনও হতাশাজনক রয়েছে, কারণ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র আবারও নতুন করে সংঘাতের এবং আলোচনায় ব্যর্থতার কাছাকাছি চলে এসেছে। শুধুমাত্র এই সপ্তাহেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অন্তত পাঁচবার আলোচনা ভেস্তে গিয়েছে এবং ঠিক ততবারই আবার আলোচনা শুরু হয়েছে। সংঘাতের তীব্রতা নতুন করে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তারপর আবার প্রশমিত হচ্ছে। এই কর্মকান্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নতুন করে হামলা চালাতে চান, শীঘ্রই একটি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রতিশ্রুতি দেন, এবং তারপর আলোচনা ব্যাহত করার জন্য ইরানকে দায়ী করে আলোচনাকে ব্যর্থ ঘোষণা করেন। আমরা প্রায় নিশ্চিত যে ট্রাম্পের কাছ থেকে আসা ৯০ শতাংশ তথ্যই ভুল। তা সত্ত্বেও, মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতিটি নতুন বিবৃতির প্রতি ট্রেডাররা সংবেদনশীলভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে চলেছে।
চলতি সপ্তাহের শেষদিনের ট্রেডিংয়ে, ট্রাম্প আরও কিছু পরস্পরবিরোধী মন্তব্য করলে উভয় কারেন্সি পেয়ারেরই বেশ সক্রিয় ট্রেডিং দেখা যেতে পারে। আজ ইউরো 1.1584-1.1594 এরিয়া থেকে এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3380-1.3386 এরিয়া থেকে ট্রেড করা যেতে পারে। কারেন্সি মার্কেটে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটই মূল প্রভাব বিস্তার করছে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।