আরও দেখুন
সোমবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল, যদিও এজন্য স্থানীয় পর্যায়ে কোনো ভিত্তি দেখা যায়নি। তবে আগেই আমরা পর্যবেক্ষণ করেছিল যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ব্রিটিশ পাউন্ড সম্পূর্ণরূপে অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীনভাবে দরপতনের শিকার হয়েছে। তাই আমরা পাউন্ডের মূল্যের পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা করছি এবং ধারণা করছি এটির মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে 1.3600-1.3700 লেভেলের দিকে যেতে পারে। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রে ISM সার্ভিস PMI সূচক প্রকাশিত হয়েছিল, যেটির ফলাফল ট্রেডারদের মাঝে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেনি—আসল ফলাফল পূর্বাভাসের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল। ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের পর গত দুই সপ্তাহে পাউন্ড স্টার্লিংয়ের যতটুকু দরপতন হয়েছিল তার সবটুকুই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে; তখন ট্রেডাররা আশাবাদী ছিল যে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছরের শেষ নাগাদ অবশ্যই মূল সুদের হার বাড়াবে। আমরা এ বিষয়ে এখনও সংশয় পোষণ করছি, এবং 2026 সালে যে বিষয়গুলোর প্রভাবে মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে তা প্রায় পুরোপুরিভাবে ব্যবহৃত হয়েছে—সেগুলোও অল্পই ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু না হলে বর্তমানে GBP/USD পেয়ারের মূল্য সম্ভবত ইতোমধ্যেই 1.4000-এর ওপরে পৌঁছে যেত; তবুও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন ঘটেছে, যা বেশ কিছুদিন ধরে মার্কেটে তেমন একটা প্রভাব ফেলেনি। সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে যে 2022 সাল থেকে এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে।
সোমবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুইটি কার্যকর বাই সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, যেগুলো কাজে লাগিয়ে নতুন ট্রেডাররা সহজেই মুনাফা করতে পারতেন। ইউরোপীয় সেশনের সময় এই পেয়ারের মূল্য একাধিকবার 1.3319-1.3331 এরিয়া থেকে বাউন্স করেছে, এবং মার্কিন সেশনে এই পেয়ারের মূল্য 1.3380-1.3386 এরিয়ায় ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ফলে আজও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে, এবং গতকাল নতুন ট্রেডাররা প্রায় 45 পিপস মুনাফা নিশ্চিত করতে পেরেছে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে, যা মূলত কারেকশন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, তবে এটিই সামগ্রিক প্রবণতায় পরিণত হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের পুরোপুরি সমাধান না হলেও সাময়িক যুদ্ধবিরতি বজায় আছে; ফেড কেবল বছরের শেষ নাগাদ সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে, যা নাও ঘটতে পারে। আমাদের দৃঢ়ভাবে ধারণা করছি যে মার্কিন ডলারের আরও দর বৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট ভিত্তি নেই—না মৌলিকভাবে, না ভূ-রাজনৈতিকভাবে। তাই ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যের উত্থান অব্যাহত থাকতে পারে।
মঙ্গলবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3380-1.3386 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3319-1.3331-এর এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3380-1.3386 এরিয়ার ওপরে কনসলিডেট করে, তাহলে লং পজিশন হোল্ড করে রাখা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3456-1.3476-এর এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3043, 1.3096-1.3107, 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, এবং 1.3695। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই; যুক্তরাষ্ট্রে ADP থেকে শ্রমবাজার সংক্রান্ত সাপ্তাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।