আরও দেখুন
গতকাল, মার্কিন ইকুইটি সূচকগুলোতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সাথে লেনদেন শেষ হয়েছে। S&P 500 সূচক 0.72% বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং নাসডাক 100 সূচক 1.12% বৃদ্ধি পেয়েছে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ সূচক 0.29% বৃদ্ধি পেয়েছে।
আজ এশিয়ার স্টক মার্কেটগুলো ইতোমধ্যেই নিম্নমুখী হয়েছে, এবং প্রযুক্তি খাতভিত্তিক স্টক বিক্রির প্রবণতা আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। এমএসসিআই এশিয়া প্যাসিফিক সূচক দিনের মধ্যে 2.2% পর্যন্ত কমে গিয়েছিল, কিন্তু এরপর ক্রেতারা সক্রিয় হলে দরপতনের মাত্রা কমিয়ে তা প্রায় 1.5%-এ নিয়ে আসে। নতুন করে প্রযুক্তি খাতভিত্তিক স্টক বিক্রির চাপ এই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে যে, এআই খাত হয়তো প্রয়োজনের চেয়ে বেশি উত্থান দেখতে পেয়েছে হয়ে।
মার্কেটের পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রতিফলিত হওয়ায় স্যামসাং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। ডেটা-সেন্টার মেমরি চিপের ব্যাপক চাহিদার ফলে কোম্পানিটির মুনাফা অভাবনীয়ভাবে ১৯ গুণ বৃদ্ধি পেলেও, এটির স্টকের দর প্রায় 10% পড়ে যায়। এর কারণ হলো, মুনাফার পরিমাণ বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের চেয়ে মাত্র 6% বেশি ছিল; তাছাড়া বছরের শুরু থেকে কোম্পানিটির স্টকের দর দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় ট্রেডাররা আরও ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা করছিল। এই পরিস্থিতির মূল তাৎপর্য হলো—এআই বিষয়ক প্রতিযোগিতার পরবর্তী ধাপের জন্য ট্রেডারদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যায়নে এক বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে।
প্রযুক্তি খাতের প্রতি আগ্রহ বা উদ্দীপনা হারিয়ে যায়নি ঠিকই, তবে বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ এখন একটি মূল প্রশ্নের দিকে সরে গেছে: ক্রমবর্ধমান মূলধনী ব্যয়, তীব্রতর হতে থাকা প্রতিযোগিতা এবং সক্ষমতা সম্প্রসারণের ফলে কি এমন মাত্রায় মুনাফা বৃদ্ধি করা সম্ভব, যা কোম্পানিগুলোর উচ্চ বাজারমূল্যকে যৌক্তিক প্রমাণ করতে পারে? সক্ষমতা বৃদ্ধি, কাজে বিলম্ব এবং ঋণ বেড়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো—যা আগে উপেক্ষা করা হতো—সেগুলোই এখন স্টক বিক্রির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মূলত অতিরিক্ত চড়া মূল্যের প্রযুক্তি খাত থেকে মূলধন সরিয়ে অন্যান্য খাতে স্থানান্তর করাই সামগ্রিক পরিস্থিতির মূল প্রবণতা।
অন্যদিকে, ট্রেডাররা ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতার দিকে ঝুঁকেছে এবং জ্বালানি তেলের মূল্যে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির প্রভাব পুনরায় ফিরে এসেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় ওমানের উপকূলে গ্যাসবাহী একটি জাহাজে হামলার ঘটনার পর ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় 1.2% বেড়ে $72.85-এ দাঁড়িয়েছে। এই হামলা জুনের শেষের দিকে হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে আবারও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে এবং ট্রেডারদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে, আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির বিষয়টি সমাধানের ধারেকাছেও পৌঁছায়নি।
১০-বছর মেয়াদী ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড তিন বেসিস পয়েন্ট বেড়ে 4.50%-এ দাঁড়িয়েছে। মার্কিন ডলারের দর কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বর্ণের মূল্য টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমে প্রতি আউন্স প্রায় $4,125-এ নেমে এসেছে। ২০০৭ সালের পর থেকে হেজ ফান্ডগুলো বিয়ারিশ প্রবণতার পূর্বাভাস দেয়া সত্ত্বেও, মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দর সামান্য বেড়ে প্রতি 161.81-এ উন্নীত হয়েছে।
টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী S&P 500 সূচকের ক্রেতাদের প্রধান কাজ হবে সূচকটির মূল্যের $7,518-এর নিকটতম রেজিস্ট্যান্স অতিক্রম করানো। এটি আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিশ্চিত করবে এবং $7,544-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে। সূচকটির দর $7,574-এর উপর ধরে রাখাও ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। যদি ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা কমে গিয়ে দরপতন হয়, তাহলে সূচকটির দর $7,494-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হতে হবে। এই লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সূচকটির মূল্য দ্রুত $7,474-এ নেমে যেতে পারে এবং $7,451.